ইবিতে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা: ভিডিও ফুটেজ দেখে ১৯ অস্ত্রধারীর পরিচয় শনাক্ত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিবির নেতাকে চড় মারার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শনিবারের (৫ সেপ্টেম্বর) ওই ঘটনার সময় প্রধান ফটকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া অন্তত ১৯ জন বহিরাগত অস্ত্রধারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করাসহ বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অস্ত্রধারীদের পরিচয়
সংঘর্ষের উত্তেজনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রধান ফটকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ১৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
শনাক্তকৃতরা হলেন—পদ্মদী গ্রামের বিএনপি কর্মী মানোয়ার; যুবদলের হামিম, সানোয়ার ও রাজিব; পদ্মদীর ইমন বিশ্বাস; শীতলডাঙ্গার শিমুল; জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার; আনন্দনগরের নাহিদ ও বাঁধন; শেখপাড়ার জিম মণ্ডল, নিবিড় মণ্ডল, সাইফুল, হিমেল, তৌহিদ, রাতুল জোয়ার্দার ও সোহাগ; ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হৃদয়; মদনডাঙ্গা হাই স্কুলের এসএসসি ২৬ ব্যাচের রাইসুল (পদ্মদী) এবং চরশান্তিডাঙ্গার দশম শ্রেণির ছাত্র মিকদাদ।
আরো পড়ুন ’গালি দেওয়া কি সন্ত্রাস?’—সিফাতের মুক্তিসহ ৩ দাবি ডা. তাসনিম জারার
অভিযুক্তদের বক্তব্য ও ছাত্রদলের অবস্থান
অস্ত্র হাতে মহড়ার বিষয়ে পদ্মদীর বিএনপি কর্মী মানোয়ার বলেন, ‘সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করিনি। স্থানীয় জামায়াত উস্কানি দেওয়ায় আমরা তাদের ধাওয়া দিয়েছিলাম।’ হাতে অস্ত্রের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘ওখানে আমাদের হাতে লাঠি ছিল, কোনো অস্ত্র ছিল না। আমি তো সবাইকে চিনি না, বিক্ষুব্ধ হয়ে হয়তো কেউ আসতে পারে।’
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিঠুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোনো বহিরাগত নিয়ে আসিনি। বিক্ষুব্ধ জনতা হয়তো আসতে পারে। প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, আমরা তাদের ওপর আস্থা রাখছি। কমিটি দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’
থমথমে ক্যাম্পাস ও নিরাপত্তা জোরদার
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে শনিবার মধ্যরাত থেকেই মাইকিং করা হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড যাচাই করে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে।
এদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের কোনো তৎপরতা দেখা না গেলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আড্ডা দিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে প্রধান ফটকের বাইরে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোডাউন করে এবং জামায়াত-শিবিরবিরোধী স্লোগান দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ
সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জানান, পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি দিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন।

