বাগেরহাটে চাঞ্চল্যকর তিন খুনের রহস্য উদঘাটন: পরকীয়ার জেরে হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার ৩
বাগেরহাট প্রতিনিধি | News Daily Bangla
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাগেরহাটের কচুয়া থানা এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর তিন খুনের ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার
গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি হলেন—জাহিদুল ইসলাম, আসাদুল শেখ এবং মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসাদুল শেখকে তার নিজ বাড়ি থেকে এবং পরবর্তীতে মো. আরিফ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কালো রঙের ZENX-2 মডেলের মোবাইল ফোন এবং এর একটি চার্জার আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও পরকীয়ার জেরে বিরোধ
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, গত ২ আগস্ট রাতে কচুয়া থানাধীন চান্দেরখোলা এলাকায় তিনজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে, পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, নিহতদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে তীব্র বিরোধ ও কলহের সৃষ্টি হয়। এই পারিবারিক কলহের জের ধরেই একপর্যায়ে জাহিদুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যদের সহযোগিতায় এই হত্যাকাণ্ডের সুপরিকল্পিত ছক কষে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্তের অগ্রগতি
গত ৩ আগস্ট খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে পুলিশ সুপার স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের চূড়ান্তভাবে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো মদদদাতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতগুলোও তদন্তের স্বার্থে গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই এলাকায় এখনো ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।


হালা গরে বাটাম দে 😡😡
Pingback: দড়ি টেনে নৌকা পার করেন প্রতিবন্ধী জনি, সেই আয়েই চলে ৬ সদস্যের সংসার - News Daily Bangla